নগদ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খোলার নিয়ম 2021 !Best rules !

নগদ মোবাইল ব্যাংকিং  বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেম ।  যেটি মূলত 2009 সাল থেকে তাদের যাত্রা শুরু করেছে এবং  খুব অল্প সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের জনপ্রিয়তা অর্জন করে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে । মূলত নগদ ডিএসএস বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যা দেশের মানুষের দৈনিক আর্থিক লেনদেনের চাহিদা এবং একই সাথে তা হবে  ঝামেলাবিহীন এবং সহজ । 

 

নগদ বর্তমানে  সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে দেশের সবচেয়ে কম  ক্যাশ আউট চার্জ রেটের  জন্য । মূলত আজকের পোস্টে আমরা কিভাবে নগদমোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খুলতে হয় সে সম্পর্কে জানব । যাতে পরবর্তীতে নগদ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খুলতে কোন ধরনের সমস্যা অথবা বিপত্তির সম্মুখীন হতে না হয় । 

 

 তাহলে চলুন step-by-step জেনে নেওয়া যাক নগদ মোবাইল ব্যাংকিং খোলার নিয়ম  ! 

 

নগদ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খোলার নিয়মঃ

 এখন আপনি চাইলে ঘরে বসে খুলতে পারেন নগদ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট ।  

 

নগদ একাউন্ট খুলতে যা যা দরকার

 

নগদ একাউন্ট খুলতে হলে আপনার প্রয়োজন হবে একটি স্মার্টফোন জেটিতে উন্নত মানের ক্যামেরা থাকবে এবং  দরকার হবে আপনার এনআইডি কার্ড ।  সাথে থাকতে হবে  আপনার নির্দিষ্ট অপারেটরের একটি সিমকার্ড । 

নগদ মোবাইল ব্যাংকিং

প্রথমত আপনার মোবাইলে গুগল প্লে স্টোর থেকে নগদ অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে নিতে হবে ।  নগদ অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করার জন্য আপনি ক্লিক করতে পারেন এই লিংকে । 

 

অতঃপর ওপরে দেখানো  ছবির মত করে রেজিস্ট্রেশন করুন এই লেখাতে ক্লিক করতে হবে । এরপর আপনার কাছে যে পেজ আসবে সেখানে আপনি আপনার নির্দিষ্ট অপারেটরের  নাম্বারটি দিতে হবে ।  খেয়াল রাখবেন যেন এটি আপনার পার্সোনাল নাম্বার এবং একই সাথে সক্রিয় একটি নাম্বার হয় । 

 

অতঃপর নাম্বার বসানো হয় গেলে “পরবর্তী ধাপ”  লেখাতে ক্লিক করুন ।না হলে নগদ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খুলতে পারবেন না । 

এরপর আপনার ফোন নাম্বারের অপারেটর সিলেক্ট করে এদিকে “পরবর্তী ধাপ”  লেখাতে ক্লিক করুন । 

নগদ মোবাইল ব্যাংকিং

পরবর্তী ধাপে আপনার এনআইডি কার্ডের উভয় পাশের ছবি দিন । এখানে একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে যখন আপনি আপনার এনআইডি কার্ডের ছবি তুলবেন তখন অবশ্যই একটি মানসম্মত ক্যামেরা সম্পূর্ণ ফোন ব্যবহার করতে  হবে যাতে করে এনআইডি কার্ড সাবমিশনের সময় কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয় । এনআইডি কার্ড সাবমিশন ও হয়ে গেলে  আপনার এনআইডি কার্ড থেকে সংগ্রহীত যাবতীয় তথ্য গুলো দেখানো হবে । সব তথ্য ঠিকঠাক রয়েছে কিনা তা যাচাই করে নিন । 

অতঃপর পরবর্তী ধাপ লেখায় ক্লিক করে আপনার মুখের একটি ছবি তুলুন । এখানে মনে রাখবেন ছবি তোলার সময় যথেষ্ট  প্রাকৃতিক আলো থাকে কৃত্রিম আলো হলে খুব একটা সমস্যা নেই তবে প্রাকৃতিক ভালো থাকাটাই শ্রেয় । আপনার মুখমন্ডলের ছবি তোলার সময় অবশ্যই চোখের পলক একাধিকবার ফেলতে হবে যাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তা বুঝতে পারে । 

এবং এর পরের ধাপে আপনাকে আপনার নাম লিখতে হবে অথবা আপনার একটি সিগনেচার প্রদান করতে হবে । আপনার ফোনটি যদি ভালো প্রসেসর এবং ডিসপ্লে সম্পন্ন হয় তাহলে সেই ক্ষেত্রে খুব সহজেই সিগনেচার দিতে পারবেন । এবং আমি সিগনেচার দেওয়াটাকে  বেশি গুরুত্ব দেই । 

সব ইনফরমেশন ঠিকঠাকমতো সাবমিট করা হয়ে গেলে আপনার কাছ থেকে এবার পিন সেট আপ করানোর জন্য কিছু পারমিশন চাবে নগদ অ্যাপ্লিকেশন ।  সেগুলো যথাযথভাবে দিন।

এবং অতঃপর আপনার পছন্দমত চার ডিজিটের একটি পিন সেট আপ করুন । উপরে দেখানোর মত ⅔ বার সেটআপ করার অপশন থাকে । পিন রিসেট করা হয়ে গেলে আপনার কাছ থেকে 2 অথবা তিন দিনের মধ্যে একটি ভেরিফিকেশন এসএমএস পাঠানো হবে । ভেরিফিকেশন এসএমএস পাঠানোর পর আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন আপনার  নগদ একাউন্ট একটিভ হয়ে গেছে । 

 

যেহেতু আপনি ,  নিজের ঘরে বসে নগদ একাউন্ট খোলার একটু সুযোগ পাচ্ছেন সুতরাং এক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের অসত  পথ অবলম্বন করেন তাহলে পরবর্তীতে এর ফল ভোগ করতে হবে সে ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত থাকা যায় । কেননা বর্তমান সময় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করাটা খুব সহজ একটি ব্যাপারে পরিণত হয়েছে । 

 

নগদ একাউন্ট খোলার বিষয়ে কিছু টিপস এবং ট্রিকসঃ 

 

১। নগদ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট এ আপনি যে একাউন্টে করবেন এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তির নিজস্ব সম্পত্তি বলে গণ্য হবে সুতরাং, আপনি ব্যতীত এই একাউন্টের অ্যাকসেসিবিলিটি অন্যকে না দেওয়াটাই ভালো হবে ।  এমনকি পরিবারের লোক অথবা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের  দেওয়াটা উচিত নয় । 

 

২। নগদ একাউন্টের পিন নম্বর অথবা ওটিপি কোড কাউকে দেবেন না । বর্তমান সময়ে এই ব্যাপারটি সবাইকে অবগত করার পরেও অনেকে কাজটি বারবার পিনকোড প্রতারককে দেয়ার জন্য প্রতারণার শিকার হচ্ছে । 

 

৩। নগদ একাউন্ট খুলতে গিয়ে যে কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন  হলে যোগাযোগ করতে পারেন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে । ভিজিট করুন তাদের অফিশিয়াল ফেইসবুক পেজ !

 

 নগদ মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধাঃ

 

নগদ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট ব্যবহার করে আপনি একাধিক সুবিধা পেতে পারেন ।  তার  মধ্যে কিছু সুবিধা নিম্নরূপঃ

 

  • দেশের সর্বনিম্ন ক্যাশ আউট চার্জ

নগদ আপনাকে দেব এদেশের সবচেয়ে কম রেটে ক্যাশ আউট করার সুযোগ ।  হাজারে মাত্র 9 টাকা চার্জ প্রযোজ্য হবে ক্যাশআউট করার ক্ষেত্রে ।  

 

  • নগদ অ্যাপে সেন্ড মানি ফ্রি

হ্যাঁ আপনারা ঠিকই পড়েছেন । বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমে সেন্ড  মানি একদম ফ্রি । 

  • বিল পে ফ্রি ( গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি )

যেখানে দেশের অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেম বিল-পে করার ক্ষেত্রে একটি বড় অংকের চার্জ প্রযোজ্য করে সেখানে নগদে আপনি বিল পে করতে পারবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে । এছাড়াও প্রতিনিয়ত ও নগদ বিল-পে করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অফার দিয়ে থাকে । এই সংক্রান্ত অফার সম্পর্কে জানতে আপনি ভিজিট করতে পারেন আমাদের ওয়েবসাইট ! 

 

  • সেরা মোবাইল রিচার্জ অফার

নগদ মোবাইল ব্যাংকিং এর  মাধ্যমে আপনি মোবাইল রিচার্জ করতে পারবেন একদম ঘরে বসে । প্রতিনিয়ত নগদ তাদের গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের মোবাইল রিচার্জ অফার দিয়ে থাকে । প্রতিনিয়ত রিচার্জের উপর ক্যাশব্যাক অফার দিয়ে থাকে নগদ । 

 

 

  • নগদে টাকা বৃদ্ধি পায় সবচেয়ে দ্রুত হারে !

আপনি যদি আপনার  নগদ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে 5 হাজারের অধিক টাকা জমা রাখেন তাহলে প্রতিবছর আপনাকে 7.5 টাকা হারে মুনাফা প্রদান করা হবে । তবে নগর থেকে মুনাফা গ্রহণের জন্য অবশ্যই একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে মুনাফা গ্রহীতা অ্যাকাউন্ট অপশনটি সিলেক্ট করে দিতে হবে । 

কিন্তু আপনি যদি মুনাফা গ্রহণ না করতে চান তাহলে সেই ক্ষেত্রে এই অপশনটি সিলেক্ট করার প্রয়োজন নেই । অনেকে ভুলবশত এই অপশনটি সিলেক্ট করে থাকেন এবং ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা থাকার কারণে পরবর্তীতে দ্বিমত পোষণ করেন । 

 

 

আমাদের ব্লগের আরো আর্টিকেল পড়ে নিন !