?> জাতীয় পরিচয় পত্র ডাউনলোড করার নিয়ম -2021 - Tech News Trend

জাতীয় পরিচয় পত্র ডাউনলোড করার নিয়ম -2021

জাতীয় পরিচয় পত্র একজন বাংলাদেশী হিসেবে আপনার পরিচয় বহন করে । যেকোনো ধরনের দাপ্তরিক কাজ অথবা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্র  এর উপর ভিত্তি করে মূলত আপনার তথ্য গুলো পূরণ করা হয় ।  এটি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনার পরিচয় তুলে ধরে । আপনার কাছে যদি  বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে থাকে তাহলে আপনি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন ।  এতে কেউ আপনাকে বাধা প্রদান করবে না । 

 

আঠারো বছর বয়স হলে প্রত্যেক নারী পুরুষের জন্য বাংলাদেশের এন আই ডি কার্ড গ্রহণ করাটা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায় । এবং সে কারণে আপনার যদি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র না থেকে থাকে তাহলে এখনি তা গ্রহণ করার ব্যবস্থা করতে হবে । 

 

একটা সময় ছিল যখন জাতীয় পরিচয় পত্র মানে ছিল প্যারা দায়ক একটি বিষয় । তবে বর্তমান  সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে সবকিছু ইন্টারনেটনির্ভর হওয়ার ফলে এন আই ডি কার্ড তথ্য প্রদান , এন আই ডি কার্ড গ্রহণ ,জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ,জাতীয় পরিচয়পত্র উত্তোলন ইত্যাদি সহজতর হয়েছে । 

 

দেশের  প্রত্যেকটি  অঞ্চলে ,  এমনকি দূরবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছে এই সেবা । তবে সঠিক পদ্ধতি না জানার কারনে এখনো অনেকটা নির্ভর থাকতে হয় বিভিন্ন কম্পিউটার দোকানের ওপরে । 

 

আর সে কারণে  এই আর্টিকেলটিতে মূলত আলোচনা করা হবে,এন আই ডি কার্ড যাচাই, অনলাইনেই মিলবে জাতীয়পরিচয় পত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফি, এন আই ডি কার্ড ডাউনলোড, জাতীয় পরিচয়পত্র চেক করার নিয়ম, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফরম ডাউনলোড, জাতীয় পরিচয়পত্র চেক, এন আই ডি কার্ড সংশোধন, জাতীয় পরিচয় পত্র অনুসন্ধান, জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে গেলে, বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফরম, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফরম ডাউনলোড, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, , জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন অনলাইনে, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম, জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ ইত্যাদি সকল বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা । 

 

 তো চলুন এক এক  করে শুরু করা যাক ! 

 

নতুন জাতীয় পরিচয় পত্র কিভাবে দেখবঃ

 

কিছুদিন পূর্বে এই সেবা বাংলাদেশের প্রদান করা হতো না ।  তবে সম্প্রতি সময় সমগ্র বাংলাদেশের নতুন জাতীয় পত্র অনলাইন সংস্করণ বের করা হয়েছে ।  সুতরাং আপনি যদি চান তাহলে এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র  অনলাইনে দেখে নিতে পারেন ।  

 

 যদি কেউ নতুন জাতীয় পরিচয় পত্রের অনলাইন সংস্করণ দেখতে চান তাহলে প্রথমে আপনাকে একটি জিনিস সংগ্রহ করতে হবে ।  সাধারণত ভোটার আইডি কার্ড অর্থাৎ এন আই ডি কার্ড এর জন্য আবেদন করার সময় একটি কাগজ অর্থাৎ চিরকুট  আপনার হাতে দেওয়া হয় । এখানে বিশেষ কিছু নাম্বার এবং ডিজিট  লেখা থাকে । 

 

 কিছুটা নিচের ছবির মতঃ 

 

জাতীয় পরিচয় পত্র

ফটো ক্রেডিটঃ গুগল  

 

যদিও উপরের ছবিটা কিছুটা ঝাপসা তবে আমি নিচেই আপনাদেরকে বুঝাতে পেরেছি আমি কোন কাগজ এর কথা বলছি ।  এটিকে মূলত বলা হয় নিবন্ধন স্লিপ । খেয়াল করে দেখুন এখানে মূলত আট ডিজিটের একটি নম্বর রয়েছে ।  এবং আপনি যদি জাতীয় পরিচয় পত্রের অনলাইন সংস্করণ দেখতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে এই আট ডিজিটের নাম্বার কেবল প্রয়োজন পড়বে । 

 

জাতীয় পরিচয় পত্র ডাউনলোড, ভোটার আইডি কার্ড চেক করার নিয়ম

 

আপনি যদি জাতীয় পরিচয় পত্র ডাউনলোড করতে চান তাহলে যেতে হবে এই লিংকে ।  এখানে ক্লিক করুন !

 

এবার নিচে দেখানো ছবির মত একটি ফ্রম দেখতে পাবেনঃ

এখানে আপনার কাছ থেকে যে দুইটি তথ্য চাওয়া হয়েছে এই দুইটি তথ্য  দিয়ে ক্যাপচা পুরন করুন । যদি দুইটি তথ্য ঠিকঠাক থাকে তাহলে নিচের ছবিতে আপনার ভোটার আইডি কার্ড নম্বরটি আসবে !

ফটো ক্রেডিটঃ অর্ডিনারী আইটি

 

এখন যদি অনলাইন থেকে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র টি সংগ্রহ করতে চান তাহলে ক্লিক করতে হবে এই লিংকে । এখানে ক্লিক করুন ! 

 

যদি আপনার রেজিস্ট্রেশন না করা থাকে তাহলে রেজিস্ট্রেশন করে নিন ।  রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আপনার নিম্নোক্ত তথ্য গুলো পূরণ করতে হবে যেগুলো আপনি  ইতিমধ্যেই পেয়েছেন । 

 

 রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেল অতঃপর লগইন করুন । লগইন করার পর আপনি আপনার প্রোফাইলে চলে ।  যাওয়ার পর নিচের ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করুন !

 

ফটো ক্রেডিটঃ অর্ডিনারী আইটি

 

ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে আপনার কাঙ্খিত জাতীয় পরিচয় পত্র এসে উপস্থিত ।  অতঃপর আপনার ডিভাইসে  প্রিন্টার কমান্ড দেওয়ার মাধ্যমে ডাউনলোড করে নিন আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি টি । 

 

 

এছাড়াও একটি নির্দিষ্ট সময় পর আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন  পৌরসভা, উপজেলা ,  ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় থেকে । 

 

এফ টি পি সার্ভার কি ?

 

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম

 

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে হলে আপনাকে যেতে হবে নিকটস্থ পৌরসভা ,  উপজেলা ,   অথবা ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে । এ কয়েকটি স্থান ব্যতীত আপনি কোন খানে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করার সুযোগ পাবেন না । অনলাইনে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের কোন ধরনের সুযোগ নেই । সংশোধনের জন্য সেখানে একটি আবেদন করতে হবে এবং আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে তার সাথে একটি দলিল যুক্ত করে দিতে হবে ।  যদি সব তথ্য ঠিকঠাক থাকে তাহলে 30 কার্যদিবসের মধ্যে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করে দেওয়া হবে ।  এবং যদি তা না করে দেওয়া হয় ,  তাহলে আপনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন । 

 

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি কত?

প্রথমবারের মতো জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে গেলে আপনার খরচ পড়বে ১০০  টাকা ।  অতঃপর দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে গেলে আপনার খরচ পড়বে প্রায় ২০০  টাকা ।  তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করতে গেলে আপনার খরচ পড়বে ৩০০  টাকা ।  এবং অতঃপর যতবারই সংশোধন করতে যাবেন প্রত্যেকবারই আপনার খরচ পড়বে ৪০০  টাকা ।  জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের কোন ধরনের সীমাবদ্ধতা নেই ।  আপনি যতবার চান জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে পারবেন । তবে একটা জিনিস মনে রাখবেন যদি নির্ধারিত ফি এর বেশি নেয়া হয় তাহলে সেই ক্ষেত্রে সেটি  আপনার কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নেয়া হয়েছে বলে ধরে নেবেন ।  এবং যদি এমন  হয়রানি করা হয়ে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে  কল করতে পারেন ৩৩৩  নম্বরে । 

 

 জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফরম ডাউনলোড

 

জাতীয় পরিচয় পত্রের  সংশোধনের জন্য যে ফরমটি থাকে এটি  কেবলমাত্র অফিস-আদালতে ব্যবহারের জন্য ।  আপনি চাইলে এটি  সরাসরি অনলাইন সংস্করণ এর মাধ্যমে পূরণ করতে পারবেন না ।  তবে হ্যা আপনি চাইলে ফর্ম টি ডাউনলোড করে, অতঃপর তা প্রিন্ট করে ঘরে বসে ফরমটি পূরণ করতে পারবেন ।  অবশ্যই মনে রাখবেন ফরমটি পূরণ করার পর আপনার ফরম পূরণের পেছনের এবং নির্দিষ্ট  দলিল গুলো একসাথে যুক্ত করে দিতে হবে ।  যদি তা না করা হয়ে থাকে তাহলে পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন কোন মতেই কার্যকর হবে না ।  সুতরাং এই জিনিসটা মাথায় রাখতে হবে !  তা না হলে পরবর্তীতে ভোগান্তির শিকার  হতে পারেন ।  জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফরম টি ডাউনলোড করতে সরাসরি এই লিঙ্কে চলে যান !  এখানে ক্লিক করুন 

 

এখন  প্রশ্ন আসতে পারে আমি যদি নিজ দায়িত্বে জাতীয়পরিচয় পত্র সংশোধন ফরম প্রিন্ট করে সেটি পূরণ করে অফিসে জমা দেই তাহলে আমার কাছ থেকে কি কোন ধরনের চার্জ কাটা হবে?

 

আপনি যদি নিজ দায়িত্বে জাতীয়পরিচয় পত্র ফরম প্রিন্ট করিয়ে নেন অথবা সেটি যদি অফিস থেকে সংগ্রহ করেন তাহলে আপনার কাছ থেকে একই ফি রাখা হবে । অর্থাৎ ফরমটি যখন আপনি আপনার নিকটস্থ  অফিস অর্থাৎ পরিষদের জমা দেবেন তখন আপনার কাছ থেকে চার্জ কেটে রাখা হবে । 

 

জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে গেলে  কি  করবেন ? 

জাতীয় পরিচয় পত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। সুতরাং সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন এটিকে এমন স্থানে রাখা যাতে এটি কখনো না হারায় ।  যদি কোনো মতে জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে যায় তাহলে সেই ক্ষেত্রে প্রথমত এটি  কাঙ্খিত স্থানগুলিতে খোঁজার চেষ্টা করুন ।  অতঃপর যদি না পান তাহলে “জাতীয়পরিচয় পত্র হারিয়ে গেছে” এই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পত্রপত্রিকায়  একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করুন ।  অথবা মাইকিং করতে পারেন আপনার এলাকার ভেতরে !  যদি কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র পেয়ে থাকে তাহলে আমার বিশ্বাস সে তা ফিরিয়ে দেবে ।  কারণ একজনের জাতীয় পরিচয় পত্র আরেকজন কখনোই  ব্যবহার করতে সক্ষম নয় একমাত্র  জাতীয় পরিচয় পত্র জয়ার যযার মালিকানাধীন সে বাদে। এবং এতেও যদি কাজ না দেয় তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনার নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটি ডায়েরি করতে হবে । জাতীয় পরিচয়পত্র যদি একদমই খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনি , জাতীয় পরিচয় পত্র পুনরায় উত্তোলন করতে পারবেন না ব্যাপারটি তা নয় ।  আপনি চাইলে অনলাইনে ঘরে বসে আবেদন করতে ।  তবে অনলাইনে আবেদন করা হলেও পরবর্তী ধাপ গুলি অনেক  ঝামেলাপূর্ণ। সে কারণে জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে গেলে   বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয় ।  একই সাথে জাতীয় পরিচয় পত্র পুনরায় উত্তোলন করতে গেলে  বেশ বেগ পেতে হয় ।  তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই ! 

 

 তাহলে এখন প্রশ্ন হলো জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে গেলে  কিভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন? 

 

 ,  আপনাকে  প্রথমে যেতে হবে এই লিংকে !

আশা করি এই লিংকে  গিয়ে যে প্রশ্ন উত্তর সেক্টরটি পাবেন সেখানে আপনি আপনার  এনআইডি কার্ড হারিয়েছে সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন । তবে দুঃখের সাথে জানানো যাচ্ছে  জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে  আপনি কোন ধরনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পুনরায় ফিরে পাবেন না । 

 

জাতীয় পরিচয়পত্র  হারিয়ে গেলে থানায় ডায়েরি করার ক্ষেত্রে কোন ধরনের চার্জ দিতে হবে না ।  তবে বাংলাদেশ  নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে খুব শীঘ্রই অর্থাৎ ভবিষ্যতে এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে থানায় ডায়েরি করার ক্ষেত্রে চার্জ প্রযোজ্য করা হবে ।  ঠিক কত চার্জ প্রযোজ্য করা হবে সে সম্পর্কে এখনো সঠিকভাবে কোন কিছু জানা যায়নি ।  চার্জ না থাকলেও পুলিশকে তো একটি বকশিশ দিতেই হয় ! 

 

এখন জাতীয় পরিচয় পত্র বা এনআইডি কার্ড ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাক ! 

 

 কিছু সাধারণ প্রশ্ন উত্তর ! 

জাতীয় পরিচয়পত্রে যদি পিতা-মাতা অথবা স্বামীকে ভুলক্রমে মৃত বলে উল্লেখ করা হয় তাহলে সেই ক্ষেত্রে সংশোধনের জন্য কি করতে হবে ।  অথবা এই ব্যাপারটি যদি আমি সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবগত করি তাহলে সে ক্ষেত্রে কোন ধরনের সাহায্য পাব কিনা?

 

 ভুলবশত  ভোটার আইডি কার্ডে উল্লেখ করা মৃত পদবী ,  আদৌ মৃত না হয়ে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির  জন্ম সনদ  অথবা ভোটার আইডি কার্ড একটি দলিল হিসেবে সংশোধন ফরম এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে ।  যাতে এতে করে এটি প্রমাণ হয়  সে ব্যক্তি এখনো জীবিত রয়েছে ।  অথবা যদি সেই ব্যক্তি মারা যায় তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনার এনআইডি কার্ডের সংশোধন আনার জন্য ডেট সার্টিফিকেট একটি দলিল হিসেবে যুক্ত করে দিতে হবে । 

 

 আমার জাতীয়পরিচয় পত্র পানি  তে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে এখন এ ক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?

 

আপনার এনআইডি কার্ড দিয়ে যদি পানিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে যদি লেখাগুলো অস্পষ্ট না থাকে এবং যদি তা অন্য মানুষের বোধগম্য হয় তাহলে সেটি সংরক্ষন করে রেখে দিন ।  চেষ্টা করুন লেমিনেটিং করার ।  তবে  এনআইডি কার্ড অর্থাৎ ন্যাশনাল আইডি কার্ড পানিতে ভিজে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনাকে পুনরায় একটি এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে । আপনার এনআইডি কার্ড আসলে পানিতে পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে এটি প্রমাণ স্বরূপ থানায় জমা দিতে হবে ।  এনআইডি কার্ড এবং ব্যাংক চেক দুইটার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই ।  একটি নাগরিক সুবিধা পাওয়ার জন্য এবং অপরটি টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে ।  এই যা পার্থক্য ! 

 

বিয়ের পর এনআইডি কার্ডের সঙ্গে স্বামীর নাম যুক্ত করার প্রয়োজন কি আছে ,  নাকি না হলেও চলবে?

 

বাংলাদেশের নারী নাগরিকেরা যদি  কোনভাবে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হয় তাহলে সেই ক্ষেত্রে স্বামীর নাম এনআইডি কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করা আবশ্যক ।  এবং একই সাথে পিতার নাম থাকতে হবে । ২০১৪  সালে এই আইন নতুন ভাবে যুক্ত করা হয়েছে । এবং একই সাথে এটাও বলে রাখা ভালো যে যদি কোনো কারণে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে তাহলে সে ক্ষেত্রে  সংশোধন আনার জন্য  সংশোধন ফরম এর সাথে যথাযথ দলিল  যুক্ত করে দিতে হবে । 

 

তবে এখন যদি এমনটা ঘটে থাকে যে আপনি  অবিবাহিত কিন্তু তারপরেও আপনার পিতার নামের  পূর্বে পিতা উল্লেখ না করে স্বামী উল্লেখ করা হয়েছে তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি যে অবিবাহিত  এটি অবগত করে একটি দরখাস্ত যুক্ত করে দিতে হবে ।  এ ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি ভেরিফিকেশন হয়ে থাকে ।  যদি আপনি ভ্যারিফিকেশনে উত্তীর্ণ হন তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে ।  আর যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে হবে না !

 

আমি আমার আইডি কার্ডে পেশা পরিবর্তন করতে চাই এক্ষেত্রে আমাকে কোন ধরনের দলিল  যুক্ত করে দিতে হবে ?

আপনি যদি আইডি কার্ডে আপনার পেশা পরিবর্তন করতে চান তাহলে সেই ক্ষেত্রে আপনাকে একটি দরখাস্ত যুক্ত করে দিতে হবে ।  এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি ভেরিফিকেশন করা হবে ।  তবে আপনি যদি কোন কোম্পানীর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করেন তাহলে সেই ক্ষেত্রে সেই কোম্পানির একটি সার্টিফিকেট আপনার সংশোধন ফরম এর সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে । যদি, আপনি বাস্তবে পেশা পরিবর্তন করে থাকেন এবং সেটা যদি এনআইডি কার্ডের উল্লেখ না থাকে  তাহলে পরবর্তীতে ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে ।  কেননা ,  আপনি যখন কোনো নিবন্ধন  ফরম পূরণ করবেন  তখন পেশায় গোলোযোগ  বেধে গেলে ভোগান্তির একশেষ হবে ।  তবে উল্লেখ্য ব্যাপার হলো এই ক্ষেত্রে  আপনার সংশোধিত এনআইডি কার্ড এ আপনার পেশা উল্লেখ করা থাকবে না । তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আপনি  যদি একজন বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন তাহলে ভোটার আইডি কার্ডের দুইবারের বেশি পেশা পরিবর্তন করতে পারবেন না । 

 

আমি এনআইডি কার্ড এ আমার বয়স বাড়াতে চাই, সে ক্ষেত্রে আমাকে কি কি ধরনের দলের যুদ্ধ করতে হবে?

 

শুরুতেই , বলে রাখা ভাল জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স বৃদ্ধি করতে চাইলে আপনার যথাযথ উপযুক্ত দলীল প্রয়োজন ।  সুতরাং আপনি চাইলে আপনার ভোটার আইডি কার্ডে ইচ্ছেমতো বয়স বাড়িয়ে নিতে পারবেন না ।  এর জন্য প্রথমত আপনার জন্ম সনদ ,  আপনার এসএসসি সার্টিফিকেট ,  এইচএসসি সার্টিফিকেট  ইত্যাদি প্রয়োজন পড়বে । এবং এগুলোতেই মূলত বাঁধবে আসল বিপত্তি ।  আপনি যদি এইসএসসির সার্টিফিকেট বয়স বাড়াতে চান তাহলে সে ক্ষেত্রে এসএসসির সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন পড়বে । আবার  এসএসসির সার্টিফিকেট এর বয়স বৃদ্ধি করতে চাইলে আপনার জে এস সি সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পড়বে । এবং এভাবে পর্যায়ক্রমে তা উপরের দিকে উঠতে থাকবে !  একপর্যায়ে তা গিয়ে ঠেক খাবে জন্ম সনদে ।  সুতরাং এখন স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পেরেছেন আপনি চাইলে ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার এনআইডি কার্ডের বয়স বাড়িয়ে নিতে । অনেকে বয়স্ক ভাতা এবং অন্যান্য ভাতা সুবিধা পাওয়ার জন্য নিজের বয়স বাড়িয়ে  নেওয়ার পরিকল্পনা করেন । কিন্তু তাদের পরিকল্পনা বিফলে  চলে যায় এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকে না । 

 

জন্মনিবন্ধন কীভাবে যাচাই করবেন?

 

সুতরাং আপনি চাইলেই বয়স পরিবর্তন করতে পারবেন না । এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের করে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

 

যদি আমার ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে যায় এবং একইসাথে  ভোটার আইডি নম্বর  স্লিপ নম্বর হারিয়ে যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে আমার কি করনীয়?

 

এমন সমস্যা আছে অনেকেই বলে থাকেন তবে যথাপোযুক্ত সমাধান পান না ।  সে ক্ষেত্রে আপনাকে নিকটস্থ উপজেলা অথবা পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সশরীরে হাজির হয়ে সংগ্রহ করতে হবে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের স্লিপ নম্বর ।  এবং একবার যদি ভোটার আইডি কার্ডের স্লিপ নম্বর পান তাহলে সেক্ষেত্রে ভোটার  কার্ড নম্বর বের করা ফেলাটাও কোন ব্যাপার নয় । অতঃপর সকল ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে  হারিয়ে যাওয়া আইডি কার্ড পুনরায় ফিরে পেতে জমা দিতে হবে আপনার নিকটস্থ থানায় ।  শুরুতেই বলা হয়েছে এবং এখনও বলা হচ্ছে থানায় ডায়েরি করার ক্ষেত্রে কোন ধরনের চার্জ প্রযোজ্য হবে না ।  তবে ভবিষ্যতে চার্জ  নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে । 

 

আমি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের করতে চাই অর্থাৎ আমি ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করতে চাই এক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?

যেহেতু আপনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন সুতরাং এখান থেকে ফিরে আসার আর  কোন উপায় নেই। একমাত্র আপনার এন আইডি কার্ডটি তখনই বাজেয়াপ্ত করা হবে যখন আপনাকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে অর্থাৎ বাংলাদেশ আপনার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে অথবা আপনাকে নির্বাসনে পাঠানো হবে অন্য দেশে । 

 

আমি 2008 অথবা 2010 সালের দিকে এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। তবে এখনো আমি এনআইডি কার্ড গ্রহণ করিনি, এখন আমি কোথায় থেকে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করবো?

 

 এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করার জন্য আপনাকে আপনার নিকটস্থ পরিষদে অর্থাৎ অফিসে যেতে হবে ।  এবং অবশ্যই সশরীরে অবস্থান করতে হবে । যদি আপনার কাছে স্লিপ অথবা এনআইডি কার্ডের নাম্বার থেকে থাকে তাহলে আপনার এনআইডি কার্ড অর্থাৎ জাতীয় পরিচয় পত্র খুঁজে বের করাটা আরও সহজতর হবে । 

 

জাতীয় পরিচয় পত্র বিতরণ

 

একটা সময় ছিল যখন জাতীয় পরিচয় পত্র বিতরণ এর খবর আসলে আমাদেরকে নিকটস্থ পরিষদে গিয়ে অথবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়ে ধন্যে  ধরে বসে থাকতে হত ।  তবে এখন যুগ পাল্টেছে ।  জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য কেউ আর অপেক্ষা করে না ।  জাতীয় পরিচয় পত্রের স্লিপ নাম্বার এবং ভোটার আইডি কার্ড নাম্বার যদি জানা থাকে তাহলে খুব সহজে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তা বের করে নেওয়া যায় এবং অতঃপর প্রিন্ট করে লেমিনেটিং  দিয়ে বেঁধে নিলেই পেয়ে যাবেন আপনার কাংখিত এনআইডি কার্ড ।  তবে একটা কথা সবসময় মাথায় রাখবেন একবার যদি আপনার এনআইডি কার্ড উত্তোলন করে ফেলেন তাহলে পরবর্তীতে  ডাটাবেজ থেকে সকল ধরনের তথ্য মুছে যাবে ।  অর্থাৎ আপনি  একটি এনআইডি কার্ড হারিয়ে দিয়ে আরেকটি এনআইডি কার্ড কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন না । 

 

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন অনলাইনে

শুরুতে বলা হয়েছে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব নয় ।  আপনি চাইলে কেবলমাত্র একটি ফরম ডাউনলোড করে সেটিকে প্রিন্ট করে নিতে পারেন ।  কিন্তু ঘুরে ফিরে আপনার স্থানীয় পরিষদে অর্থাৎ অফিসে জমা দিতে হবে ।  এবং বিনিময় ধার্য করা হয়েছে সেটি তাদেরকে চুকিয়ে দিয়ে আসতে হবে । তবে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে অতিসত্বর জাতীয় পরিচয় পত্র  সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে । 

 

কিভাবে  জাতীয় পরিচয় পত্র  ট্রাক করবেন?

 

জাতীয় পরিচয় পত্র ট্র্যাক করতে অর্থাত এন আই ডি কার্ড সর্বশেষ অবস্থা জানতে হলে আপনাকে যেতে হবে এই লিঙ্কে। এখানে ক্লিক করুন !অতঃপর অনলাইনে এন আই ডি কার্ড ট্র্যাক করার জন্য আপনার এনআইডি নাম্বার এবং স্লিপে থাকা নাম্বারটি প্রদান করুন ।  ক্যাপচার করুন । সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অতিসত্বর আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে কবে নাগাদ আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র টি আপনার হাতে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত হবে । 

 

জাতীয় পরিচয়পত্র এর কাজ কি?

 

জাতীয়পরিচয় পত্র আপনার জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে । 

 

১। নিবন্ধনের কাজে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করতে হবে । 

২। ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে আপনার  জাতীয়পরিচয় পত্রের দরকার হবে ,  যাতে করে বোঝা যায় আপনি বাংলাদেশের নাগরিক । 

৩। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আপনার জাতীয়পরিচয় পত্রের প্রয়োজন হবে । 

৪। বিভিন্ন ধরনের ভাতা ,  এবং চাকরির আবেদনের জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ভোটার আইডি কার্ডের । 

 

৫।বিভিন্ন ধরনের রেশন কার্ড  সংগ্রহ করতে হলে আপনার  থাকতে হবে একটি ন্যাশনাল আইডি কার্ড । 

 

৬।বাইরে দেশের যাওয়ার জন্য ভিসা পাসপোর্ট  ইত্যাদি তৈরি করতে গেলে আপনার এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হবে ।  এমন কি  দেশের বাইরে এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে । বিশেষ করে আপনি যদি সেখানে কোনো জটিলতায় ফেঁসে যান তাহলে সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হচ্ছে আপনার এনআইডি কার্ড দেখিয়ে দেওয়া । এতে করে আর বাদ বাকি বিষয়গুলো তে ক্লিয়ারেন্স আসবে । 

 

৭। ব্যাংকে একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন হবে একটি এনআইডি কার্ডের ।  এনআইডি কার্ড যে শুধুমাত্র আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা নয় বরং আপনার সন্তানের বিভিন্ন ধরনের নিবন্ধন কার্যক্রম ,  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সহ যেকোন কাজে প্রয়োজন হতে পারে আপনার এনআইডি কার্ড।

 

৮। বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমে  একাউন্ট খোলার জন্য আপনার প্রয়োজন পড়বে জাতীয়পরিচয় পত্র অর্থাৎ ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা সংক্ষেপে এনআইডি কার্ডের ।  এতে পড়বে আপনারা বিকাশ , নগদ ,রকেট সহ বেশ কয়েকটি মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খোলার সময়  ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর একটি ছবি এবং আপনার নিজস্ব একটি ছবি দিয়ে থাকবেন । 

 

দিনশেষে  একটি কথাই বলার ,  আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড আপনার পরিচয় বহন করে ।  আপনি যে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড নাগরিক সেটি প্রকাশ পায় আপনার এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে ।  আঠারো বছর বয়স হলেই এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করুন । এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা ভোগ করুন ,  ভোট দিন !  দেশের গণতন্ত্রকে জাগ্রত করুন ।  ধন্যবাদ ! 

 

Leave a Comment